Saturday, December 31, 2011

ঋণাত্মক মনন


অবসাদ, অপরিসীম অবসাদ।
হৃদয়ভার অক্ষিপল্লবে ভর করে।
ঊষার আলো গোধূলি মনে হয়।
শীতকালীন তাপসংগ্রহ আজকাল
বিলাসিতা বলে ভ্রম হয়।
ছেঁড়া পাল আর ভাঙা হালের
নৌকার দিক ঠিক রাখতে
হাওয়া আর জল হিমসিম খায়।
প্রবহমান স্থির তড়িতের আনুকূল্যে
দেওয়ালটা ভুষো কালি মাখা।
প্রতিবিম্বের ঔজ্জ্বল্য অন্ধকার
আরও গাঢ় করে তোলে।
আরও একটা শ্বাস শেষ হয়।

Monday, December 26, 2011

ইচ্ছে


এমন না হলে কেমনি হতাম
তাই মাঝে মাঝে ভাবি,
ইচ্ছে শোনে মনের কথা
আর স্বপ্ন খায় খাবি।

হয়তো হতাম ছোট্ট চারা
বুড়ো বটের ছায়ে,
টিমটিমে এক কুপি হতাম
মাঝির সাথে নায়ে।

হয়তো হঠাৎ খুঁজে পেতাম
নিজেরে কোন গাঁয়ে,
লাল মাটি এক রাস্তা হতাম
সদর ফেলে বাঁয়ে।

কে বা জানে পাখি হতাম
সকাল থেকে সাঁঝে,
মেলে ডানা হারিয়ে যেতাম
আকাশ নীল মাঝে।

মাচার ওপর কুমড়ো ফুলে
হয়তো আমায় পেতে,
হাল চালানো গরু হতেম
চাষির সাথে ক্ষেতে।

স্বপ্ন দেখি হয়েছি আমি
রাইফেলের গুলি,
লক্ষ্য কোথায় জানি নেকো
হৃদয় নাকি খুলি।

Sunday, December 25, 2011

তাচ্ছিল্যর তার ছিঁড়ল


হেসো না তুমি আমার দিকে তাকিয়ে
উপেক্ষা আর তাচ্ছিল্য মিশিয়ে,
ভেঙচিয়ো না মুখটা অমন বাঁকিয়ে,
কী সুখ পাবে অন্যের মন বিষিয়ে?

তোমরা যা পারো আমিও তা পারি করতে
রান্না করেও চুল বাঁধে এলোকেশী,
তোমরা যা গড় আমিও তা পারি গড়তে
হয়তো একটু সময় লাগবে বেশী।


অন্যের চেয়ে নিজেকে হারাতে নেই ক্ষতি,
স্পর্শ করুক কায়া তব শিরোচ্ছায়া।
ঈশ্বরঃ সর্ব্বভূতানাং হৃদ্দেশেহর্জ্জুন তিষ্ঠতি।
ভ্রাময়ন্‌ সর্ব্বভূতানি যন্ত্রারূঢ়ানি মায়য়া।।

Wednesday, November 23, 2011

কোলাজ

চাঁদের আলোয় গ্রিলের নকশায়
পায়ের মাপ মেলানো,
বিকেল আর সন্ধ্যের সন্ধিক্ষণে
মুষলধারে বৃষ্টি আর
বন্ধ কোলাপসিবলের পিছনে
হিচককের শিরশিরানি,
বারান্দায় তক্তোপোষে
রাতে খাওয়ার পর
মায়ের মুখে ডাকাত পড়ার গল্প,
সাইকেলের চাকার হঠাৎ
থেমে যাওয়া শুনে
বাবার ফেরার ইঙ্গিত,
বাগানে আমগাছগুলোকে
বন্ধু ভেবে খেলা,
আলুক্ষেতের পাশে
ইঁট আর নারকেল পাতার
কাণ্ড দিয়ে বানানো বেঞ্চে
সারা দুপুর কাটানো,
চালচিত্রে এই কোলাজ
অবয়বকে আরও স্পষ্ট করে।

হাল্কা শীতের সকাল

ফোকলা ঘরে একলা শুয়ে কম্বলেতে ঢাকি,
পর্দাঢাকা জানলা দিয়ে কিচিরমিচির পাখি।
ব্যোমকে যাওয়া সিলিং থেকে থমকে যাওয়া ফ্যান
বলছে আমায়, ঠাণ্ডা হাওয়ায় আছিস শুয়ে ক্যান?
জোয়ানপাচক, অম্লনাশক টেবিল ’পরে রাখা
মুচকি হেসে বলছে কেশে, খাবি আরও? খা খা!
অ্যালার্ম-ঘড়ি করছে চুরি সেকেণ্ডগুলো ঝেড়ে
ভাবছে কখন বাজব আমি, উঠবে ব্যাটা নড়ে।
আবছাভাবে গামছাখানা ঝুলছে দড়ি থেকে,
টয়লেটে যা, এখন ফাঁকা, বলছে হেঁকে হেঁকে।
দাঁতের মাজন গাইছে গাজন উঁচুতে গলা তুলে,
কোথায় গেলি দাঁতের বুরুশ, গেলি কি মোরে ভুলে
মুখখানি ধুয়ে, চোখদুটি থুয়ে, চিরুণির তল্লাশ
জুতো মোজা গলিয়ে সোজা মেসে প্রাতরাশ।
দিনটি হল শুরু এখন, অনেক আছে বাকি,
মিলিয়ে ছন্দ ফেললাম লিখে সকালের টুকিটাকি।

Saturday, November 5, 2011

শাশ্বত কক্ষপথে আবর্তন


কাঁচের পুতুল
প্রতিসরণ আর প্রতিফলনেই ব্যস্ত
তিনটে হাত চক্রাকার পথে
ঘুরে চলে নিয়ত
শব্দ আর ছবিরা জাল বোনে
তাদের হাতিয়ার করে
পুতুল পুতুলে চলে
মাৎস্যান্যায়
নিজেকে জোড়ার কষ্টের চেয়ে
অন্যকে ভাঙার আনন্দ
তাৎক্ষণিকভাবে ভুলিয়ে দেয়
বোকাদের স্বর্গরাজ্য
উপাদান এক হলেও
আকারে প্রকারে বোঝায়
নিজের মাহাত্ম্য
স্বচ্ছতা এখন লজ্জা
সংস্কার পিছনে মেখে
সং সেজে ঘুরে বেড়ায়
নীতিকে অস্বীকার করে
অনিয়মের রাজ্য স্থাপনা করে
অশ্বমেধ ঘোড়ার দৌড়ের চোটে
বাকিরা হয় গাধা
অন্যদের যে রঙে রাঙায়
সে রঙ তৈরী করেনি সে
কোনওদিন
অন্যের কাঁধে পা
আর নিজের হাতে আকাশ
আলো তো সবখানেই
ওপরে হয়তো উত্তাপ বেশী
নাকি রামধনু তৈরীর বাসনা
মাটি ছাড়লে উচ্চতার ভয়
কুরে কুরে খায়
আলো নিভলে যখন
রামধনুও শেষ হয়
তখন চেতনা জাগরিত হয়
অথবা কে জানে
কলসী-ভাঙা আকাশ
কি আর মাটির
গুণাগুণ বিচার করে


Friday, October 21, 2011

তোমার আসা মনে মনে



আকাশভরা আলো যখন
জল হয়ে ঝড়ে
তখন তুমি আসো।
আমি বয়ে যাই যবে
সময় দাঁড়িয়ে হাসে
তখন তুমি আসো।
একটা কি সুর গুনগুনিয়ে
কানে যখন বাজে
তখন তুমি আসো।
ছবি আঁকার তুলি যখন
রঙ ছুঁয়ে হাসে
তখন তুমি আসো।
বলটা যখন মাঠ ছেড়ে
নদীর জলে ভাসে
তখন তুমি আসো।
সাঁঝের বেলা তুলসীতলায়
দীপ যখন জ্বলে
তখন তুমি আসো।
ভাতের পরে পাড়া ঘুমোয়
লেপটা গায়ে টেনে
তখন তুমি আসো।
মনটা যখন আমায় ছেড়ে
যায় দূরে চলে
তখন তুমি আসো।