Monday, September 9, 2013

যাত্রী

রাতের অজ্ঞানতা-শেষের আলো -
সম্মার্জনীর কৃপায় ধূসর দৃশ্যে
মার্জিত পদক্ষেপ – প্রারম্ভ যার
ব্রাহ্মমূহুর্তের উদাত্ত প্রণবধ্বনির সাথে।
নিত্যকর্মের কোলাহলে প্রাবল্য হারিয়েও
বিরত হয়নি শান্তির বাণী উচ্চারণ।
সঙ্ঘচ্ছায়া পরিত্যাগীর
কালস্রোতে সন্তরণের অবলম্বন
চীরখণ্ড, ভিক্ষাপাত্র আর যষ্টি।
করুণাময় দৃষ্টি নিবদ্ধ সুদূর গন্তব্যে –
অনেকটা পথ আজও বাকি।

মার এসেছে -
প্রতিবন্ধকতার শব্দরূপ
মধ্যরাতে বুভুক্ষু কুকুরের ক্ষীণ,
অথবা সহযাত্রীর আর্তস্বর।
তরুমূলে নিবিড় একদণ্ড বিশ্রাম
জাগিয়েছে লোভ, শ্রান্তি, বিভ্রম।
ক্লান্ত চোখ মাইলফলকে খোঁজে
শতবর্ষাতেও অম্লান শিলালিপি –
শ্লথ, অপসৃয়মান ছায়া শান্তি দেয়
স্থিরঘুমে জেগে থাকা স্বপ্নকে।

পথপাশে একদল স্থাবর মানুষ -
যাদের চোখ জিজ্ঞাসায় নীরব।
কবে থামবে শ্রমণ? তোমার চোখে
বালুঘড়িতে মুক্তোকণার দীপ্তি -
উত্তরীয়ের রঙ যবে
গৈরিক চাঁদের সাথে মিলে যাবে।

Monday, January 30, 2012


যার কিছু বলার নেই
সেও আজ বাগ্মী
না ভালোবাসলেও
যান্ত্রিক হাগ মি

Sunday, January 29, 2012

প্রাণ


একটু প্রাণ দিতে চাই আমি -
সেইসব নক্ষত্রদের যারা চিরকাল
নিজেদের জ্বালিয়ে গেল প্রাণহীন
কিছু গ্রহদের সাথী করে খেলার আশায়।
আমার একটু প্রাণ পেলে হয়তো
নর্তকীদের ভাস্কর্যগুলো নিজেদের
দেহভঙ্গিমা পরিবর্তন করতে পারত।
একটু প্রাণ পারত ঝরে যাবার আগে
অনাঘ্রাত ফুলের শেষ আক্ষেপটুকু
মুছে ফেলতে। যে নিমডাল
আর একটা নতুন চারাগাছের জন্ম
দিত, আমার একটু প্রাণ পেলে
তাকে হয়তো আর দাঁতন হতে হত না।
তাদের সবাইকে প্রাণ দিতে চাই আমি
শুধু একটু প্রাণ রাখতে চাই নিজের জন্য
যখন বিশ্বে সব প্রাণ নিঃশেষিত হয়ে যাবে,
তখন একাকী ঈশ্বরকে সঙ্গ দেবার জন্য।

Sunday, January 22, 2012


রাস্তাঘাটে ঘুরে বেড়ায়
সভ্য যত অসভ্য লোক।
না মিলিয়ে লিখে ফেলা
গদ্যগুলো পদ্য হোক।

Friday, January 20, 2012


গন্ধমাদনের বদলে নুড়িপাথর, তাই সই
নাচতে গিয়ে খুলে পড়ে কোছাগাছ।
মহীরূহ হওয়া আর হল কই?
আমরা সবাই জোড়কলমের গাছ।

Sunday, January 1, 2012

চক্রবৎ পরিবর্তন্তে


অবস্থা পরিবর্তনের শেষ মূহুর্তে
চেতনা সংজ্ঞা হারায়,
অথবা অস্তিত্ব। অবাক লাগে,
শূন্য স্মৃতিশক্তি নিয়েও
পরমাণুরা কেমন কাজ করে।
পঞ্চভূত প্রতিদ্বন্দী হয়েও
সৃষ্টির মূর্চ্ছনায় সামগান।
জ্বরাক্রান্ত বৃক্ষ অনিচ্ছায় স্নাত।
হালখাতার আশায়
প্রতিটি পৃথ্বীকণা চাতক।
চোখে পড়ে, তাই মনে আসে
চেনা চৌকাঠে হোঁচটের আক্ষেপ।

Saturday, December 31, 2011

ঋণাত্মক মনন


অবসাদ, অপরিসীম অবসাদ।
হৃদয়ভার অক্ষিপল্লবে ভর করে।
ঊষার আলো গোধূলি মনে হয়।
শীতকালীন তাপসংগ্রহ আজকাল
বিলাসিতা বলে ভ্রম হয়।
ছেঁড়া পাল আর ভাঙা হালের
নৌকার দিক ঠিক রাখতে
হাওয়া আর জল হিমসিম খায়।
প্রবহমান স্থির তড়িতের আনুকূল্যে
দেওয়ালটা ভুষো কালি মাখা।
প্রতিবিম্বের ঔজ্জ্বল্য অন্ধকার
আরও গাঢ় করে তোলে।
আরও একটা শ্বাস শেষ হয়।