Wednesday, November 23, 2011

কোলাজ

চাঁদের আলোয় গ্রিলের নকশায়
পায়ের মাপ মেলানো,
বিকেল আর সন্ধ্যের সন্ধিক্ষণে
মুষলধারে বৃষ্টি আর
বন্ধ কোলাপসিবলের পিছনে
হিচককের শিরশিরানি,
বারান্দায় তক্তোপোষে
রাতে খাওয়ার পর
মায়ের মুখে ডাকাত পড়ার গল্প,
সাইকেলের চাকার হঠাৎ
থেমে যাওয়া শুনে
বাবার ফেরার ইঙ্গিত,
বাগানে আমগাছগুলোকে
বন্ধু ভেবে খেলা,
আলুক্ষেতের পাশে
ইঁট আর নারকেল পাতার
কাণ্ড দিয়ে বানানো বেঞ্চে
সারা দুপুর কাটানো,
চালচিত্রে এই কোলাজ
অবয়বকে আরও স্পষ্ট করে।

হাল্কা শীতের সকাল

ফোকলা ঘরে একলা শুয়ে কম্বলেতে ঢাকি,
পর্দাঢাকা জানলা দিয়ে কিচিরমিচির পাখি।
ব্যোমকে যাওয়া সিলিং থেকে থমকে যাওয়া ফ্যান
বলছে আমায়, ঠাণ্ডা হাওয়ায় আছিস শুয়ে ক্যান?
জোয়ানপাচক, অম্লনাশক টেবিল ’পরে রাখা
মুচকি হেসে বলছে কেশে, খাবি আরও? খা খা!
অ্যালার্ম-ঘড়ি করছে চুরি সেকেণ্ডগুলো ঝেড়ে
ভাবছে কখন বাজব আমি, উঠবে ব্যাটা নড়ে।
আবছাভাবে গামছাখানা ঝুলছে দড়ি থেকে,
টয়লেটে যা, এখন ফাঁকা, বলছে হেঁকে হেঁকে।
দাঁতের মাজন গাইছে গাজন উঁচুতে গলা তুলে,
কোথায় গেলি দাঁতের বুরুশ, গেলি কি মোরে ভুলে
মুখখানি ধুয়ে, চোখদুটি থুয়ে, চিরুণির তল্লাশ
জুতো মোজা গলিয়ে সোজা মেসে প্রাতরাশ।
দিনটি হল শুরু এখন, অনেক আছে বাকি,
মিলিয়ে ছন্দ ফেললাম লিখে সকালের টুকিটাকি।

Saturday, November 5, 2011

শাশ্বত কক্ষপথে আবর্তন


কাঁচের পুতুল
প্রতিসরণ আর প্রতিফলনেই ব্যস্ত
তিনটে হাত চক্রাকার পথে
ঘুরে চলে নিয়ত
শব্দ আর ছবিরা জাল বোনে
তাদের হাতিয়ার করে
পুতুল পুতুলে চলে
মাৎস্যান্যায়
নিজেকে জোড়ার কষ্টের চেয়ে
অন্যকে ভাঙার আনন্দ
তাৎক্ষণিকভাবে ভুলিয়ে দেয়
বোকাদের স্বর্গরাজ্য
উপাদান এক হলেও
আকারে প্রকারে বোঝায়
নিজের মাহাত্ম্য
স্বচ্ছতা এখন লজ্জা
সংস্কার পিছনে মেখে
সং সেজে ঘুরে বেড়ায়
নীতিকে অস্বীকার করে
অনিয়মের রাজ্য স্থাপনা করে
অশ্বমেধ ঘোড়ার দৌড়ের চোটে
বাকিরা হয় গাধা
অন্যদের যে রঙে রাঙায়
সে রঙ তৈরী করেনি সে
কোনওদিন
অন্যের কাঁধে পা
আর নিজের হাতে আকাশ
আলো তো সবখানেই
ওপরে হয়তো উত্তাপ বেশী
নাকি রামধনু তৈরীর বাসনা
মাটি ছাড়লে উচ্চতার ভয়
কুরে কুরে খায়
আলো নিভলে যখন
রামধনুও শেষ হয়
তখন চেতনা জাগরিত হয়
অথবা কে জানে
কলসী-ভাঙা আকাশ
কি আর মাটির
গুণাগুণ বিচার করে